স্বাধীনতার ৫৫ বছর: বাংলাদেশ কি আজও আঞ্চলিক প্রভাবের চাপে?
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। লাখো শহীদের রক্ত, অসংখ্য নারীর সম্ভ্রম এবং কোটি মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা ছিল বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় অর্জন।
( Picture collected from Google)
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—স্বাধীনতা কি কেবল একটি পতাকা ও ভূখণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি এর গভীরে আরও কিছু আছে?
২০২৪ সালের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন করে এই প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।
🇧🇩 ১৯৭১-এর স্বাধীনতা ও অদৃশ্য আধিপত্যের ধারণা
মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই একটি বিতর্ক চলে আসছে—
বাংলাদেশ কি প্রকৃত অর্থে পরিপূর্ণ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিকশিত হতে পেরেছে?
অনেক বিশ্লেষকের মতে,
অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা
পররাষ্ট্রনীতিতে একমুখী চাপ
পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা ও বাণিজ্য বৈষম্য
এই বিষয়গুলো একটি অদৃশ্য আধিপত্যের ইঙ্গিত দেয়, যা সময়ের সাথে আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
🤝 বন্ধুত্ব না আধিপত্য? বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বাস্তবতা
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে “বন্ধুত্বপূর্ণ” বলা হয়ে এসেছে।
কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক সময় ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে—
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়া
অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনের অভাব
অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
বাণিজ্যে একতরফা সুবিধা
এসব বিষয় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে—
এই সম্পর্ক কি সমতার, নাকি প্রভাব বিস্তারের?
📆 কেন ২০২৪ সাল একটি টার্নিং পয়েন্ট?
২০২৪ সাল অনেক বাংলাদেশির চোখ খুলে দিয়েছে।
যেসব বিষয় আগে বই, রাজনৈতিক বক্তব্য বা ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল, সেগুলো এখন—
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ
সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা
এর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
ফলে জনগণ বুঝতে শুরু করেছে—
অতীতের অনেক বর্ণনা ও রাজনৈতিক ভাষ্য ছিল ক্ষমতা ও স্বার্থকেন্দ্রিক।
🇵🇰 পাকিস্তান প্রসঙ্গ: ইতিহাসের জটিল বাস্তবতা
এটি ইতিহাসের এক জটিল ও সংবেদনশীল অধ্যায়।
যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই পাকিস্তানের জনগণ ও কিছু রাজনৈতিক মহল আজ আঞ্চলিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে।
এটি প্রমাণ করে—
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বা বন্ধু বলে কিছু নেই
আছে কেবল স্বার্থ, নিরাপত্তা ও ভারসাম্য
🔥 জনগণের অঙ্গীকার: সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন
বাংলাদেশের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে—
এই দেশের মাটি ও স্বাধীনতা রক্ষায় তারা আপসহীন।
“প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হবে—যে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে।”
এই চেতনা কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়,
বরং ন্যায্যতা, আত্মমর্যাদা ও সমতার পক্ষে।
পরিশেষে,
বাংলাদেশ আজ আর রাজনৈতিক বয়ানের উপর নির্ভরশীল নয়।
মানুষ এখন প্রশ্ন করে, বিশ্লেষণ করে, তুলনা করে।
স্বাধীনতা মানে শুধু অতীতের অর্জন নয়—
স্বাধীনতা একটি চলমান সংগ্রাম।
এই সংগ্রাম চলবে—
অন্যায় আধিপত্যের বিরুদ্ধে
একতরফা প্রভাবের বিরুদ্ধে
জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদার পক্ষে।
গোলামী নয়, আজাদী ই মুক্তির পথ।

Comments
Post a Comment