স্বাধীনতার নামে অন্যায়: প্রকৃত অপশক্তি চেনার দায়িত্ব কার ?


প্রকৃত অর্থেই যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, তারা কখনো সজ্ঞানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, লুটপাট, পাচার কিংবা অনিয়মের সঙ্গে নিজেদের জড়াতে পারে না। কারণ স্বাধীনতা কেবল একটি স্লোগান নয়—এটি নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের সমন্বিত রূপ।



যারা মুখে স্বাধীনতার কথা বলে, অথচ ক্ষমতা পেয়েই সেই একই শোষণ, সেই একই অন্যায়ের চর্চা করে—তারা স্বাধীনতার ধারক নয়, বরং স্বাধীনতার মুখোশধারী শত্রু। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি করে কেউ কখনো মুক্তির পথ নির্মাণ করতে পারে না।


গলাবাজির স্বাধীনতা বনাম মূল্যবোধের স্বাধীনতা


স্বাধীনতা যদি কেবল গলাবাজির বিষয় হয়, যদি তা নৈতিকতা ও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকে—তবে সেটি স্বাধীনতা নয়, তা ক্ষমতার লালসা। যারা স্বাধীনতার কথা বলে আবার সেই স্বাধীনতার আড়ালে জনগণের সম্পদ লুট করে, রাষ্ট্রকে দুর্বল করে, সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে—তারাই প্রকৃত অর্থে সবচেয়ে বড় অপশক্তি।


এদের চরিত্র একাত্তরের রাজাকারদের মতোই—পরিস্থিতি বদলেছে, ভাষা বদলেছে, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতার রূপ বদলায়নি।

জ্ঞান ও বাস্তবতার আলোতেই অপশক্তি চিহ্নিত হয়

মানুষ নামক সৃষ্টির সবচেয়ে বড় অর্জন তার জ্ঞান ও বিবেক। আবেগ নয়, ঢাকঢোল নয়—জ্ঞান, যুক্তি ও বাস্তবতার আলোতেই সত্য-মিথ্যা, বন্ধু-শত্রু আলাদা করা যায়। যারা প্রশ্ন করতে ভয় পায়, যারা যুক্তিকে শত্রু ভাবে, তারা মূলত অন্যায়কে টিকিয়ে রাখার পক্ষে কাজ করে।


পুরোনো স্লোগান আওড়িয়ে, ইতিহাসকে বিকৃত করে, বাস্তবতাকে অস্বীকার করে যারা জনতাকে বিভ্রান্ত করতে চায়—তাদের নসিহত অর্থহীন। কারণ যেখানে বিবেক নেই, সেখানে উপদেশ পৌঁছায় না।


বিবেকবর্জিত শক্তি কেন পশুর থেকেও নিকৃষ্ট


পশু তার প্রবৃত্তির বাইরে যায় না। কিন্তু বিবেকবর্জিত মানুষ জেনেশুনে অন্যায় করে, সত্যকে চাপা দেয়, মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করে। এই সচেতন অন্যায়ই তাকে পশুর থেকেও নিকৃষ্ট করে তোলে। কারণ এখানে অজ্ঞতা নয়—এখানে আছে ইচ্ছাকৃত অমানবিকতা।


পরিশেষে,

স্বাধীনতা রক্ষা করা কোনো দলের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। এটি একটি চলমান সংগ্রাম—অন্যায়ের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, মিথ্যার বিরুদ্ধে। প্রকৃত স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে না।

Comments